স্কিল-প্যারালইসিস থেকে বের হয়ে আসো!

ক্রনিক ডিজিজ হলে সেটা অনেক দিন থাকে। লং-টার্ম অসুখই সাধারণতঃ এই ক্যাটাগরিতে পড়ে। কিংবা এমন কোনও অসুখ যেটা সার্ফেস করতে অনেক সময় নেয়। কিন্তু যখন ধরা পড়ে তখন করার তেমন কিছুই থাকে না। আপনার কেরিয়ারও এমন অসুখে পড়তে পারে!

যখন আপনি মাত্র আপনার প্রফেশনাল কেরিয়ার শুরু করেছেন এবং একটি নির্দিষ্ট ধরনের কাজ করতে করতে অন্য সব কাজের প্রতি অনীহা তৈরী হয়েছে নিজের অজান্তেই, তখনই কিন্তু আপনি বুঝতে পারবেন না আপনি স্কিল-প্যারালইসিসে আক্রান্ত হয়ে গিয়েছেন। অনেকদিন পর যখন দেখবেন আপনার নিজের কাজের কিংবা স্কিলের বাইরে সামান্য একটু কিছু করতে পারলেই অনেক বড় অর্জন করতে পারতেন তখনই কেবল আপনি বুঝতে পারলেন যে, আপনার এই স্কিল-প্যারালইসিসের কারণেই সেই অর্জন হাতে ধরা দেবে না।

সুখের বিষয় হচ্ছে মেডিক্যাল সায়েন্স হয়তো তার সীমাবদ্ধতার কারণে আপনার রোগ সারাতে পারে না কিছু ক্ষেত্রে, কিন্তু কেরিয়ার জনিত কিংবা স্কিল জনিত এই রোগ আপনি যখন ইচ্ছা তখনই ঠিক করে ফেলার কাজ শুরু করে দিতে পারেন। ঠিক ভাবে লেগে থাকলে আপনি সফল হবেন – সেটার ব্যপারে আমি আপনাকে গ্যারেন্টি দিতে পারি। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।

তবে সেটি করতে গিয়ে আপনি যে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন সেগুলো আগে থেকেই মাথায় রাখতে পারলে আপনার কাজ সহজতর হয়ে যাবে। আর না জানলে হবে অনেক কঠিন – এমনকি আপনি frustrated হয়ে হাল ছেড়ে বসেও পড়তে পারেন, যেটি কিনা আপনার জন্য মোটেই ভাল কিছু হবে না।

এক, আপনাকে মনে রাখতে হবে এবং বার বার নিজেকে বলে বলে মনে করাতে হবে যে, স্কিল-প্যারালইসিস থেকে বের হওয়া কোনও সহজ কাজ নয়। এতে অনেক সময় দিতে হবে এবং অনেক দিন ধরে এই অসুখ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

দুই, যে স্কিলের অভাব বোধ করছেন, সেটি আপনার শহরে কে সবচেয়ে ভাল পারে খুজে বের করুন। তার কাছে ট্রেনিং করুন কিংবা তাকে request করুন আপনাকে মেন্টর করতে। তার যদি এক্কেবারেই সময় না থাকে তাহলে আপনি বলুন তার সাথে কিছুদিন থেকে আপনি তার কাজে হেল্প করবেন এবং সেটির জন্য আপনি কোনও স্যালরি চাননা। মনে রাখবেন, এতে কিন্তু আপনার ক্ষতি নেই। আপনি তার টুকিটাকি কাজ করার ফাকে তার কাছ থেকে যা শিখবেন সেটি আপনার নিজে চেষ্টা করে শেখা কখনোই সম্ভব হবে না। আমার লাইফে আমি অনেক ভাল একজন মেন্টর পেয়েছিলাম। টাইগার আইটি এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট হেড রিফাত আবেদীন। যিনি হয়তো জানেনই না তিনি আমার জন্য কত বড় একজন মেন্টর ছিলেন। কিন্তু তিনি না থাকলে আমি আজকে এই যায়গায় আসতে পারতাম না। আল্লাহকে ধন্যবাদ তার মত একজন মেন্টর আমার জীবনে দেয়ার জন্য। আর এখন আমি ড্যান লক-কে মেন্টর হিসেবে নিয়ে আমার হাই-টিকেট কনট্রাক্টস বাদে অন্য স্কিলগুলো সানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। অতএব, বুঝতেই পারছেন, মেন্টর থাকার গুরুত্ব অনেক।

তিন, এক নম্বর রুলটি মনে রেখে কখনোই হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না মাঝপথে। আপনি কখনোই জানেন না আপনি সফলতার কতটা কাছে চলে এসে ছেড়ে দিচ্ছেন। তাই চেষ্টাতে নির্লিপ্ত থাকুন।

চার, নিজের মধ্যে ইনভেস্ট করুন। আমরা ইনভেস্ট করার কথা আসলেই চিন্তা করি বিজনেস-এ ইনভেস্ট করার কথা। সেটা খারাপ তা বলছি না, কিন্তু আপনার বিজনেস একদিন আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে। কিন্তু আপনি নিজের স্কিল ডেভেলপ করার জন্য যে টাকা এবং সময় ইনভেস্ট করবেন সেটি আপনার সাথে আপনার এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেবার আগ পর্যন্ত থাকবে। আর সেই স্কিল দিয়ে করে যাওয়া কাজগুলো হয়ে থাকবে আপনার লেগাসি। যার থেকে উপকৃত হবে শত হাজার মানুষ।

যেই স্কিলের অভাবই থাকুক না কেন, আপনি সেটি overcome করার ক্ষমতা রাখেন এবং চেষ্টা ও অধ্যবসায় থাকলে আপনাকে ঠেকাতে পারবে না কেউই। শুভকামনা রইলো। এই পোস্ট ভাল লাগলে আমাকে জানাবেন কমেন্ট করে। খারাপ লাগলেও জানাবেন কী খারাপ লেগেছে। আমার পরবরতী লেখায় সেগুলো কাজে দেবে।