সমাজের সাথে হও ডিপ্লোম্যাটিক!

সমাজ আপনাকে শেখাচ্ছে আপনার জন্ম থেকেই। মাঝে মাঝে তো জন্মের আগে থেকেই সমাজ আপনাকে বলে দিচ্ছে কিভাবে জন্ম নিতে হবে – স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাকি আপনার মায়ের পেট কেটে। জন্মের পর থেকে সমাজ আপনাকে প্রতিনিয়ত কী কী শিখিয়েছে সেটা আপনি জানেন। এই লেখার মধ্যে সেগুলো আনার কোনও মানে নেই।
সমাজ আপনাকে প্রতিনিয়ত যে দিকনির্দেশনা দিতে থাকে সবকিছুর মধ্যে, সেটি আপনার নিজের বিকাশের জন্য ভালো নাও হতে পারে। সবার উপদেশ শুনবেন, কিন্তু আপনার বিবেচনায় যা করতে ইচ্ছে করবে সেটাই করা উচিত্‍। সেটা করলে সমাজ খেপে যেতে পারে কিন্তু ডিপ্লোম্যাটিক হতে পারলে সমাজকেও চুপ রাখা যায়।
সমাজ কিন্তু আমি আর আপনি – আমাদের আশপাশের এই মানুষগুলই। ভিনগ্রহের এলিয়েন দিয়ে সমাজ চলছে না। সামগ্রিক আমরাই সমাজ। সমাজ আমাদের ব্যাক্তি-ইচ্ছামতো কাজে অখুশি তখনই হয় যখন প্রচলিত নিয়ম কোনও একজনের কিংবা একটি পরিবারের জন্য ভাঙ্গতে হয়। কারণ নিজের স্বার্থের বাইরে কেউ নিয়ম ভেঙে অন্য ভাবে কাজ করতে পছন্দ করে না – যার মূল কারণ অলসতা। মানুষ স্বভাবতই অলস। অলস, আর স্বার্থপর। নতুন কিছু নয় যদিও।
এখন আপনার কী করা উচিত্‍? আপনার নিজের মাথার মধ্যে যে আইডিয়া এসেছে সেটাকে বাস্তব করতে কাজ করতে হবে, আবার সেটা করতে গিয়ে সমাজকে বিগড়ে দেয়াও যাবে না। না বিগড়ে কিভাবে কাজ করতে থাকা যায় তার কোনও ‘একটি মাত্র ছাঁচ’ কিংবা সাধারণ রীতিনীতি নেই।
মনে করেন আপনি কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রিত। আপনার সেখানে যাবার সব ব্যবস্থা সম্মেলন কতৃপক্ষ করে দিচ্ছে। কিন্তু তারা সেটা করছে বাংলাদেশের অফিসের মাধ্যমে। এখন এখানের অফিসে যিনি কর্মরত আছেন, তিনি নিজে যাবার জন্য আপনাকে বললেন যে, আপনার যাওয়ার খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে। আপনি যদি তাঁকে সন্দেহ করেও থাকেন, তাও আপনি ওদেরকে বলতে পারছেন না কারণ তাতে করে আপনার যাওয়াই অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। আপনার সাথে যেহেতু সম্মেলন কতৃপক্ষ সরাসরি যোগাযোগ করেনি, আপনার বিশ্বাস করতে হচ্ছে এই ব্যক্তিটিকে।
সম্মেলন শেষে অনেকদিন পর আপনি জানলেন আপনার সাথে এই দুর্নীতি করা হয়েছে। তখন আপনি সমাজের সবার সামনে তাঁকে ছোট করতে পারেন কথাটা বলে কিন্তু আপনার কাছে কোনও প্রমাণ নেই। অতএব সেটা বলে আপনি নিজেই বিপদে পড়বেন। অথবা আপনি কতৃপক্ষকে চুপচাপ অবহিত করে দিতে পারেন নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে। এবং এটা করাই হচ্ছে আপনার ডিপ্লোম্যাটিক থেকে সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে আপনার নিজের কাজ হাসিল করা।
এটা একটা উদাহরণ মাত্র। অন্য কোনও ক্ষেত্রে আপনার অ্যাপ্রোচ সম্পুর্ন ভিন্ন হতে পারে। সোজা কথা আপনার নিজের বুঝে নিতে হবে কী করলে সেটা ডিপ্লোম্যাটিক হবে। গুরুজনদের সাথে পরামর্শ করে নেয়া আমি highly recommend করি।
যা আসে মনে পর্ব-২: “সমাজের সাথে হও ডিপ্লোম্যাটিক”
টার্গেট অডিয়েন্স: এন্ট্রি এবং মিড লেভেল ওয়ার্ক রিসোর্স